লকডাউন ! সময় কাটছে না জেনে নিন উপায়



 বিশেষ প্রতিবেদন : চারিদিকে করোনা সংক্রমণের ভয় কাঁটা সকলে। অফিস তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম জানিয়ে দিয়েছে আগেই। কেউ কেউ এই জরুরি পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের ছুটিও দিয়েছে। বিপদ বুঝে কেন্দ্রও ২১ দিনের জন্য দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছে। চৌকাঠের বাইরে এক পা বের করার উপায় নেই। যাকে বলে একেবারে ঘরবন্দি। আপনি সামান্য অসুস্থ না হলেও, এত বিধিনিষেধে আপনার অবস্থাও এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার মতো। সময় কীভাবে কাটবে, ভাবছেন? একটু প্রিয়জনদের কাছে বসুন, গল্প করুন। মরচে পড়া সম্পর্কগুলো এমনিই ঝকঝক করে উঠবে আবার। তাছাড়া করার আরও অনেক কিছুই আছে। আপনার জন্য রইল কয়েকটি টিপস-

অফিসের ব্যস্ততায় নিশ্চয়ই অনেকদিন তো রান্নাঘরে সময় কাটানো হয়নি? তাহলে এই সময়টাকে কাজে লাগান না। শখে মা-কাকিমার কাছ থেকে তো শিখেছেন অনেক রেসিপিই। তারই একেকটা একেকদিন রেঁধে ফেলুন। পরিবারের সদস্যরা বহুদিন পর আপনার হাতের খাবার পেয়ে কেমন খুশিতে ঝলমল করে ওঠে, দেখুন না। আর সন্ধে বা রাতের বেলা নিঝুম ব্যালকনিতে কফিকাপ হাতে বসুন প্রিয়জনের মুখোমুখি। আপনাদের মাঝে নৈঃশব্দই কথা বলুক। দেখবেন, পুরনো সম্পর্কটা কেমন আবার নতুন হয়ে উঠছে। রোজকার একঘেয়েমি কেটে বেশ আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে আপনাদের যৌথ জীবনে।


কাজের সন্তানদের তেমন সময় দিয়ে উঠতে পারছিলেন না হয়ত। বিশেষত বাবারা। এখন তো অফুরন্ত সময়। অন্তত অফিস যাতায়াতের সময়টা তো বেঁচেই থাকছে। বসুন না একটু ওর সঙ্গে। পড়াশোনা কিংবা ইনডোর গেমস, অথবা নিছক ছেলেবেলার দুষ্টুমি, আপনি ওর সঙ্গী হোন। দেখবেন, আপনার ছোটবেলাটাও কেমন ফিরে আসছে। আজ কে না জানে, ওল্ড ইজ গোল্ড? এই সময়াবসরে আপনিও তাই অতীতের স্মৃতিতে ডুব দিয়ে কুড়িয়ে আনতে পারেন হরেক মণিমুক্তো। ছেলে বা মেয়ের স্কুল যে হ্যান্ডক্র্যাফটের হোমওয়ার্ক দিয়েছে, তাতে হাত লাগান মায়েরা। যেমন ছোটবেলায় আপনাকে কারুশিল্প তৈরিতে সাহায্য করতেন আপনার মা, তেমনই আপনি আজ সেই ভূমিকা পালন করুন। দেখবেন, সন্তান আপনাকে আর মিস করছে না। বরং প্রাণখুলে সব কিছু শেয়ার করে নিচ্ছে আপনারই সঙ্গে।

বাগান করার শখ তো ছিলই। কতই না গাছ বসিয়েছেন নিজের হাতে। সময়ের অভাবে আপনারাই স্বহস্তে পোঁতা গাছগুলোর যত্ন নেওয়া হচ্ছিল না। এই ফাঁকে উসকে উঠুক আপনার গার্ডেনিং স্কিল। কত নিপুণভাবে আপনি সবুজের সমারোহে ভরিয়ে দিতে পারেন বাড়ির চারপাশ, দেখিয়ে দিন আবার সবাইকে। দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইও হবে আর ভাল কাজে সময় ব্যয়ও হবে। আপনার এই কাজ হয়ত অন্যদেরও অনুপ্রেরণা দেবে কিছুটা সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটানোর। আর সেটাই আপনার সার্থকতা।


Post a comment

[blogger][facebook][disqus]

Author Name

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.